সুনামগঞ্জ , বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ , ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শাল্লায় ‘সমন্বয়কের পিআইসি’ : ফসলহানির ঝুঁকির সঙ্গে মানুষের দুর্ভোগ সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি বাঁধের কাজ, শঙ্কায় কৃষক জনগণের উন্নয়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকই থাকছে নদী ও খাল দখলকারীরা সাবধান হয়ে যান : কৃষিমন্ত্রী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের দায়িত্ব নিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী পণতীর্থে মহাবারুণী স্নান আজ দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করা হবে সড়কের উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ ‎মাসব্যাপী কিরাআত প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হাওরের বাঁধ: ‘আমরা আরম্ভ করি শেষ করি না...’ এখন থেকে কোনো ধরনের ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না : বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী মিজান চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক শিলা বৃষ্টিতে বোরো ফসল আক্রান্ত, আগাম বন্যার শঙ্কায় কৃষক অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধে জলাবদ্ধতা, কৃষকের স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর হাওরে আশা-নিরাশার দোলাচল জামালগঞ্জে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল
দেখার হাওর ধ্বংস করবেন না

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্বাচন হতে হবে বিজ্ঞ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে

  • আপলোড সময় : ০৫-১০-২০২৫ ০৮:২৩:২৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৫-১০-২০২৫ ০৮:২৩:২৮ পূর্বাহ্ন
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্বাচন হতে হবে বিজ্ঞ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় জেলাবাসীর স্বপ্ন। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের পথে এলেও এখন তা জটিল দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে। প্রস্তাবিত জায়গা শান্তিগঞ্জের জয়কলস এলাকায়, যা দেখার হাওরের অন্তর্ভুক্ত। এখানেই প্রশ্ন- হাওর ভরাট করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কি টেকসই হবে? হাওর কেবল কৃষি বা মাছের আধার নয়; এটি এক অনন্য বাস্তুতন্ত্র। সুনামগঞ্জের দেখার হাওর ৪৫ হাজার হেক্টরের বেশি বিস্তৃত, যেখানে বছরে লক্ষাধিক মেট্রিক টন ধান ও বিপুল পরিমাণ মাছ উৎপাদিত হয়। এই হাওরের পানিপ্রবাহ ও নদীর সংযোগ যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো দিয়ে বাধাগ্রস্ত হয়, তবে কৃষি ও মৎস্য সম্পদ ধ্বংস হবে। বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি হবে অপূরণীয়। পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশেষজ্ঞরাও হাওর ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের বিপক্ষে। অন্যদিকে শান্তিগঞ্জ ও আশপাশের মানুষ যুক্তি দিচ্ছেন- সুনামগঞ্জ জেলা মূলত হাওরবেষ্টিত, তাই বিকল্প জমি সীমিত। তাদের বিশ্বাস, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা গোটা অঞ্চলের উন্নয়ন ঘটাবে। এ দৃষ্টিভঙ্গি খাটো করা যায় না, তবে উন্নয়নের নামে প্রকৃতি ধ্বংস করলে সেই উন্নয়ন দীর্ঘস্থায়ী হবে না। পরিবেশ বিনষ্ট হলে এর মাশুল গুনতে হবে কৃষক, জেলে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে। এখন প্রয়োজন সমঝোতা ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যা¤পাস হোক দ্রুত, তবে তা অবশ্যই টেকসই ও পরিবেশবান্ধব হতে হবে। সুনামগঞ্জ সদর বা আশপাশের উঁচু খাস জমি- যেখানে কৃষি ও পরিবেশের ক্ষতি হবে না, সেই বিকল্প জায়গা বিবেচনায় আনা জরুরি। উন্নয়ন ও প্রকৃতি পর¯পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং টেকসই উন্নয়ন মানেই প্রকৃতিকে সুরক্ষা দিয়ে মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। আমরা মনে করি, হাওর জেলায় হাওর ধ্বংস করে বিশ্ববিদ্যালয় করা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভোগান্তিতে ঠেলে দেওয়ার নামান্তর। এখনো সময় আছে- সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণ আলোচনার মাধ্যমে যুক্তিসঙ্গত সমাধান খুঁজে নিতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় অবশ্যই হবে, তবে তার স্থান নির্বাচন হতে হবে বিজ্ঞ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। আমরা উন্নয়ন চাই, কিন্তু হাওর ধ্বংস করে নয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স